Server sync... Block time in database: 1615391772, server time: 1664113354, offset: 48721582

মিনিয়েচার মডেল "সপ্তমাশ্চর্য ভ্রমণ", ইকো পার্কে : পঞ্চম আশ্চর্য "আগ্রার তাজমহল"


তাজমহলের কথা বিস্তৃত বলে আর কি করবো ? ভারতের প্রায় প্রতিটা ছেলেমেয়েই কম বেশি জানে আগ্রার এই তাজমহলের কথা । অদ্ভুত সুন্দর এই স্থাপত্যটি । যমুনার তীরে তুষার ধবল এই সৌধের নয়নভুলানো সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়নি এমন মানুষ খুঁজলে খুব কমই মিলবে । মুঘল সম্রাট শাজাহান তাঁর প্রিয়তম স্ত্রী মমতাজের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ১৬৩২ সালে তাজমহলের নির্মাণ কাজ শুরু করেন । দীর্ঘ ২১ বছর ধরে এর নির্মাণ কাজ চলে এবং অবশেষে ১৬৫৩ সালে স্থাপত্যটি সম্পূর্ণ হয় ।

তাজ মহলের স্থপতি ছিলেন ভারত, পারস্য তুরস্কের একাধিক নামকরা স্থপতি । তন্মধ্যে ওস্তাদ আহমেদ লাহুরি, মাকরামাত খান এবং আবদুল করিম মামুর খান প্রধান ছিলেন । ২১ বছর ধরে ২২ হাজার শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল এই তাজমহল । তাজমহলের গড় উচ্চতা ১৮০ ফুট, মূল গম্বুজটি ২১৩ ফুট উঁচু এবং এর চতুর্পাশে চারটি মিনারের প্রত্যেকটির উচ্চতা ১৬২ ফুট । মূল স্থাপত্যটির আয়তন ১৯০২ X ১০০২ ফিট ।

তাজমহল বহু মূল্যবান পাথর দ্বারা নির্মিত হয়েছিল । তন্মধ্যে সাদা মার্বেল পাথর-ই ছিল প্রধান উপাদান । এছাড়াও লাল , কালো, গোপালী পাথরও প্রভূত পরিমানে আনা সারা বিশ্ব ঢুঁড়ে - ভারত, পারস্য, বাগদাদ, তিব্বত, শ্রীলংকা, ইয়ামেন, কানাডা ও মিশর প্রভৃতি দেশ থেকে প্রায় ১৭ হাজার মনেরও অধিক পাথর আনা হয় এর নির্মাণকার্যে ।

তাজমহল এখন যেমন দেখতে আগে কিন্তু এমনটি ছিল না । মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পূর্বে তাজমহলের দেয়ালের সর্বত্র নানান রকমের বহুমূল্য রত্ন ও মূল্যবান পাথরে সজ্জিত ছিল । একটি ঐতিহাসিক বিবরণী থেকে এর একটা আভাস পাওয়া যায় - চৌম্বক পাথর ৮০ মণ, স্বর্ণ ২০০ মণ, গোয়ালিওর স্টোন ৯৯০ মণ, চুনী ৬০ মণ, পান্না ১০০ মণ, ফিরোজা মণি ৯০ মণ, নীলকান্ত মণি ১৬০ মণ, নানান রঙের উজ্জ্বল মণি ও মুক্তো ১৮০ মণ, উজ্জ্বল দ্যুতিময় নানান ধরণের মূল্যবান পাথর ৮০ মণ এবং আরও মহামূল্যবান বিদেশ থেকে উপঢৌকন হিসাবে প্রাপ্ত প্রায় ২৩০ মণি মাণিক্য । মুঘল সাম্রাজ্য পতনের সাথে সাথে বহুবার লুন্ঠিত হয়ে তাজমহল এখন রিক্ত ।

সূর্যোদয়ে তাজমহলের রং হয় গোলাপী, সন্ধ্যায় ধবধবে সাদা আর পূর্ণিমা রাতে নীলাভ রঙের দেখায় ।

কথিত আছে অপূর্ব এই প্রেমের সমাধি তাজমহলের গায়ে নাকি রক্তের দাগ লেগে আছে । তাজমহলের ২২ হাজার নির্মাণ শ্রমিকের অধিকাংশের দুই হস্ত কর্তন করা হয় এর নির্মাণ কাজ সমাধার সাথে সাথেই যাতে দুনিয়াতে আর কেউ দ্বিতীয় তাজমহল না তৈরী করতে পারে ।

কলকাতার ইকো পার্কে তাজমহলের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ রয়েছে - তো চলুন দেখে নেওয়া যাক ।


ছোট্ট পরিখার ওধারে তাজমহল, গোধূলিবেলায় ।

তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২২
সময় : সন্ধ্যা ৭ টা ০২ মিনিট
স্থান : ইকো পার্ক, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


সন্ধ্যাবেলায় অনেকটা দূর থেকে তাজমহল ।

তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২২
সময় : সন্ধ্যা ৭ টা ০২ মিনিট
স্থান : ইকো পার্ক, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


ধীরে ধীরে তাজমহলের যত সন্নিকটে যাচ্ছি ততই যেন এর সৌন্দর্য্য ফুটে উঠছে ।

তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২২
সময় : সন্ধ্যা ৭ টা ০২ মিনিট
স্থান : ইকো পার্ক, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


তাজমহলের একেবারে ঠিক সামনে, রংবেরঙের বেশ কয়েকটি ফোয়ারা রয়েছে এর সামনে ।

তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২২
সময় : সন্ধ্যা ৭ টা ০২ মিনিট
স্থান : ইকো পার্ক, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


তাজমহলের গর্ভগৃহে মমতাজের সমাধির রেপ্লিকা ।

তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২২
সময় : সন্ধ্যা ৭ টা ০২ মিনিট
স্থান : ইকো পার্ক, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


তাজমহলের একটি মিনারের সামনে তনুজা এবং টিনটিনবাবু ।

তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২২
সময় : সন্ধ্যা ৭ টা ০২ মিনিট
স্থান : ইকো পার্ক, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


ক্যামেরা পরিচিতি : OnePlus
ক্যামেরা মডেল : EB2101
ফোকাল লেংথ : ৫ মিমিঃ



Comments 28