Server sync... Block time in database: 1615391772, server time: 1656164922, offset: 40773150

আমার বাংলা ব্লগ||প্রতিযোগিতা-১৪||গ্রীষ্মকালীন ফলের গল্প(১০% বেনিফিশিয়ারি লাজুক খ্যাকের জন্য)


আসসালামু আলাইকুম,আশা করি সবাই কুশল আছেন।প্রিয় @hafizullah কতৃক আয়োজিত আমার বাংলা ব্লগের ১৪ তম প্রতিযোগিতা "গ্রীষ্মকালীন ফলের গল্প" নিয়ে আমি @farhantanvir আজ আপনাদের সাথে গল্প করতে যাচ্ছি।

লেখা শুরুর আগে বিষয়বস্তু সাজাতে গিয়ে সত্যি বলতে নিজেই প্রচুর হেসেছিলাম।পুরোনো স্মৃতিগুলো মনে হওয়ায় যেমন খারাপ লাগছিলো,আবার হাসিও পাচ্ছিলো সেই ঘটনাগুলোর কথা মনে পরে।তো চলুন,কিছু গল্প শুনাই আপনাদের।

IMG20220203153339.jpg
Location

ফলাহার,সাল-২০১৫

আমার জীবনে মনে রাখার মতো একটা বছর ২০১৫ সাল।ক্লাস ফাইভে পড়তাম তখন।স্কুলের পাশাপাশি একজন স্যারের কাছে আমরা বেশ অনেকজন প্রাইভেট পড়তাম।তো স্যার অন্যান্য স্যারদের মতো পিকনিক,বিদায় অনুষ্ঠান এগুলো করতেন না।তিনি ফলাহার নামের একটা মাত্র অনুষ্ঠানই করতেন যেটা গ্রীষ্মকালে করা হতো।আমাদের বেলাতেও তার ব্যতিক্রম হয়েছিলো না।অনুষ্ঠানটা ছিল এমন,যত ছাত্র-ছাত্রী তিনি পড়াতেন তারা যে যা পারবে নিজ নিজ বাড়ি থেকে ফল-মূল আনবে।আর যেই ফলগুলো পাওয়া যাবেনা সেগুলো বাজার থেকে আনা হবে।বাড়ি থেকে আনা এবং বাজার থেকে কেনা,আম-জাম,পেয়ারা,কাঁঠাল,তরমুজ,বাঙ্গি,গাব,করমচা,তালখুর সব মিলিয়ে প্রায় ৩২/৩৩ রকম ফল হয়েছিলো।এতো ফল একসাথে আমি নিজে কখনোই দেখেছিলাম না,করমচা নামের একটি ফলের সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিল ওই অনুষ্ঠানেই।
সাধারণত বাঙ্গি,কাঁঠাল এই ফলগুলো আমরা একটু কমই পছন্দ করি।সেজন্য ফল খাওয়ার লিস্টে স্যার আগে বাঙ্গিই রেখেছিলেন আর তারপর কাঁঠাল।স্যার আমাদের পড়াতেন দুই তলায়, যখনই সিরিয়াল শুরু করেছিলেন খাওয়ানোর জন্য সাথে সাথে আমি সবার চোখের আড়াল করে তিন তলায় উঠে গিয়েছিলাম যাতে বাঙ্গি বা কাঁঠাল খেতে না হয়।আমায় দেখতে না পেয়ে খুজে বের করে আমায় এক কোয়া বাঙ্গি আর কাঁঠাল খাইয়েছিল স্যার।আর অন্যদিকে যারা সেগুলো খেতে অভ্যস্ত ছিল তারা বেশ আনন্দ করেই খাচ্ছিলো।আর এসময় সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হয়েছিল,আমার দুই বন্ধু নিরব আর নিহাত কাঁঠাল ডান হাত দিয়ে খেতে খেতে বাম হাত দিয়েও খাওয়া শুরু করেছিলো😂।ওদেরকে আমি এখনো খেপাই ওই কথাগুলো মনে করিয়ে দিয়ে।

বড় ফুফু আর মেজো ফুফুর লিচু খাওয়াঃ-

lychee-3999315_640.jpg
Pixabay link
আমার ফুফুরা খুবই খাদ্যরসিক।আমাদের দিনাজপুর কিন্তু লিচুর জন্য বিখ্যাত।আর চাকরির সুবাদে আমার বড়-আব্বু দিনাজপুরেই থাকেন।গতবছর ফুফুরা তাকে বলেছিলো আসার সময় লিচু আনার জন্য।যতদূর মনে পরে ৫০০/৫৫০ মতো লিচু বড়-আব্বু এনেছিলো।আমার দুই ফুফু সবগুলো মেঝের উপর ঢেলে নিয়ে খেতে বসেছিলো।প্রায় আধা ঘন্টা ধরে দুজনে ২৮০ টার মতো লিচু বোধয় খেয়েছিলো।আমি শুধু দুজনের খাওয়া দেখছিলাম বসে বসে।

এবার চোর তানভীরের গল্পঃ-

fruit-4220625_640.jpg
Pixabay link
সত্যি বলতে ছোট থেকে এই কাজটা বহুতবার করেছি।কোনটা ছেড়ে কোনটা বলবো তা বুঝতে পারছিনা।রিসেন্ট কিছু গল্পই বলি।
সামনে রমজান মাস,তাই ফেসবুকে একটা মিম খুব চলছে যেটাতে লেখা আছে-তারাবির নামাজ পরে আম চুরি করে আসা আমার বন্ধু মনে মনে ভাবে,আমি চোর হইলেও ঈমানদার।
আমিও সেই ঈমানদার চোরদেরই একজন😐গত বছর রোজার সময়ের ঘটনা।বাসা থেকে একটু দূরেই একটা খরির কারখানা আছে।তো ওই কারখানার চারপাশ দিয়ে বেশ অনেকগুলো আমের গাছ আছে।একটা গাছ ছিলো,যেটার আম একেকটাই প্রায় ২৫০/৩০০ গ্রাম হতো।রোজা শুরুর দিকে আম খুব একটা বড় হয়েছিলোনা,শেষের দিকে বেশ ভালোই বড় হয়েছিল।ওই গাছের আম আগে কোনোদিন না খাওয়ায় আম দেখে ভেবেছিলাম,খুব মিষ্টি হবে।তারাবির নামাজ পরে দুই বন্ধু মিলে দুইটা আম পেরে এনে খাওয়ার সময় যেই একটা কামড় বসিয়েছি তখন মনে হয়েছিল,ও খোদা-জীবনে যেন আমার শত্রুকেও এতো টক আম খাওয়ানো না হয়।

এবার যেটা বলবো,সেটা নিয়ে ছোট করে বলতে গেলে বলা লাগবে-স্বাদের ভাগিদার হইনি তবে দোষের ভাগিদার হয়েছি।ক্লাস এইটে পড়ি।বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলাম কোনো এক কাজে।ওদের বাগানে দেখি একটা গাছে বেশ বড় সাইজের কাঁঠাল ধরেছে।আমি কাঁঠাল মোটেও খাইনা,তবে বন্ধুদের খোজ দিলে ওরা তো খেতে পারবে।ওদের গিয়ে বলার পরেরদিন রাতেই ছয়জন মিলে গিয়েছিলাম ওই বন্ধুর বাগানে।একজনকে গাছে তুলে দিয়ে নিচে দাঁড়ায় ছিলাম আমরা বাকি ক'জন।উপর থেকে ও ফেলে দুইটা কাঁঠাল ফেলে দিলে একটা আমরা ভালোভাবে ধরতে পারলেও আরেকটা মাটিতে পড়ে ফেটে গিয়েছিল। শব্দ শুনতে পেরে ওই বন্ধুই আগে বেরিয়েছিল,সবাই যতটা দ্রুত সম্ভব ওখান থেকে দৌড়ে পালিয়েছিলাম।পরেরদিন ক্লাসে ওর থেকে ওদের গাছের কাঁঠাল চুরির ঘটনা শুনেছিলাম🙂।

এই পোস্ট লিখতে গিয়ে কতটা সময় যে লাগাইলাম তা বলার বাহিরে।ভাবতেছিলাম আর হাসতেছিলাম নিজে নিজেই।সময় কতই না দ্রুত চলে যায়,শুধু ফেলে যায় স্মৃতি।

সমাপ্তি


Comments 3